আমরা সবাই ক্যারিয়ার নিয়ে একটা সময় বিশেষ করে পড়াশোনা শেষের দিকে খুবই হতাশ হয়ে পড়ি এই ভেবে যে দেশে চাকরি নেই বা আত্নকর্ম সংস্তানের সুযোগ নেই। এই রকম ভাবাটাই স্বাভাবিক কারন প্রতি বছর হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী পড়াশুনা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভিন্ন কলেজ থেকে বের হচ্ছে। এই হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রীর সাথে কম্পিটিশন করে নিজের পছন্দের চাকরি বা কাজ বেছে নেয়া সত্যিই অনেক কষ্ট সাধ্য ব্যাপার।এই অসাধ্য কাজটা সাধন করার জন্য সব চাইতে গুরুত্ব পুর্ন ভুমিকা পালন করতে পারে যে জিনিসটি তা হল সঠিক সিধদান্ত আর পরিশ্রম। তবে এই সঠিক সিধদান্ত এবং পরিশ্রম করার উপায়টা না জানার কারনেই আমাদের হাজার জোড়া স্যান্ডেলের ফিতা চিরতে হয় এইখান থেকে অইখানে ঘুরতে ঘুরতে। এই ঘুরা ঘুরির অবসান কোথায়, কিভাবে তা আমরা কেউ জানি না, আর তখন মনে হয় পৃথিবীর সবচাইতে বড় বোঝাটা বুঝি আমার মাথায়। অথবা যাই করি তা মনের মত হয় না, ব্যার্থতা আমাদেরকে বার বার গ্রাস করে,কোনো কিছুতেইসফল হতে পারি না, যদি আপনার চিন্তা ভাবনা গুলো আমার সাথে মিলে যায় তাহলে আমাকে কিছুটা সময় দিন ,যেন আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস আপানাদের ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে সামান্যতম অবধান রাখতে পারে।
প্রথমেই আমাদের মাথায় যে চিন্তাটা আসে তা হল এই দেশে তো সহজে চাকরি পাওয়া যায় না, চাকরির জন্য মামা-চাচা বা টাকা পয়সার দরকার অথবা ক্ষমতাশীল কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকতে হবে।অপ্রিয় হলে ও এই বাজে কথা গুলো ধ্রুব সত্য তবে এটা ও ঠিক যে সকল সরকারি কর্মচরী বা একটি রাজনৈতিক দলের সকল নেতৃবৃন্দ ও কিন্তু অসাধু নয় তাদের মধ্যে ও কিছু সোঁনার মানুষ রয়েছে আর সেই মানুষ গুলুর জন্যই কিন্তু মেধাবিদের সম্মান করা হচ্ছে বা মেধাবিরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে অনেক উঁচু মানের চাকরি বা কাজ করছেন। আমার এই কথা গুলো বলার উদ্দ্যেশ্য হল কখনো ও হতাশ হবেন না এই ভেবে যে আপনার চাকরির জন্য কোন লোক বা টাকা পয়সার দরকার কারন এই চিন্তা ভাবনা গুলু যদি আপানাকে একবার বর করে ফেলে তাহলে এই হীনমন্যতা থেকে আপনি কখনো বের হয়ে আসতে পারবেন না।
আমাদের মনে রাখতে হবে অর্থনৈতিক উন্নতির দিক দিয়ে দেশ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক কারনেই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্টানে কাজের চাহিদা ও দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে এবং সেখানে অনেক কর্ম সংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। নুতুন ভাবে গড়ে ওঠছে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্টান,কল কারখানা, আইটি পার্ক, হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ,নুতুন নতুন বিভিন্ন ব্যাংকসহ অসংখ্য এন জি ও প্রতিষ্টান এবং বাংলা ও ইংলিশ মিডিয়াম নামে লখ্যাধিক স্কুল-কলেজ যেখানে আপানার পছন্দ মত কাজ করে গড়ে নিতে পারেন আপনার ক্যারিয়ার।
এইতো গেল শুধু দেশের খবর চাইলে আন্তর্জাতিক ভাবেও আপনি আপনার ক্যারিয়ার গড়তে পারেন এবং উচ্চ বেতনের আশায় অনেকই তা করছে এবং ভাল পরিমান সেলারিও পাচ্ছে। আজকাল অনেকেই শুধুমাত্র অনলাইনে বসে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন প্রজেক্টর টিম লিডার হিসেবে কাজ করছে অর্থাৎ কোন একটা কাজের শুরু থেকে শেষ হওয়া সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ভাবে নির্দেশ দিচ্ছে, কি করতে হবে, কিভাবে করতে হবে,কোথাও ভুল হচ্ছে কি না ,ভুল হলে সেগুলো ধরিয়ে দিচ্ছে এই সব এবং অত্যন্ত হাই লেভেল সেলারি নিচ্ছে যা আপনি চিন্তা ও করতে পারবেন না।
প্রথমে লক্ষ্য নির্ধারন করুণ যে ক্যারিয়ার হিসেবে আপানি কোন পেশাটাকে বেছে নিতে চান এবং সেভাবেই এগিয়ে যান অর্থাৎ ঐ চাকরিটার জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করূন যেমন একজন ব্যাংকার বা একজন শিক্ষক অথবা একজন আইটি পরিক্ষার্থীর লিখিত ও মৌখিক উভয় পরিক্ষার ধরনই কিন্তু আলাদা এবং সেভাবেই তাকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
পরিশেষে বলতে চাই হতাশ হবার কিছু নেই চাই সাহস,অধ্যবসায়,আর সঠিক সিদ্ধান্ত ।এই কাজগুলো যদি করতে পারেন তাহলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন ইনশাল্লাহ। ক্যারিয়ার নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলাদাভাবে লিখা আমার কিছু ব্লগ রয়েছে চাইলে সেগুলু পড়ে নিতে পারেন।
No comments:
Post a Comment